Ibadah/ইবাদত

তারাবীহর নামাযের রাকআত সংখ্যা কত?

Posted on

তারাবীহর নামাযের রাকআত সংখ্যা

ভূমিকাআল্লাহ তায়ালা বলেন: “হে ঈমানদারগণ! আল্লাহ্‌র নির্দেশ মান্য কর, নির্দেশ মান্য কর রসূলের এবং তোমাদের মধ্যে যারা বিচারক তাদের। তারপর যদি তোমরা কোন বিষয়ে বিবাদে প্রবৃত্ত হয়ে পড়, তাহলে তা আল্লাহ্‌ ও তার রসূলের প্রতি প্রত্যর্পণ কর- যদি তোমরা আল্লাহ্‌ ও কেয়ামত দিবসের ওপর বিশ্বাসী হয়ে থাক। আর এটাই কল্যাণকর এবং পরিণতির দিক দিয়ে উত্তম। (সূরা নিসাঃ ৫৯)

রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম বলেন: আমার পরে তোমাদের মধ্যে যারা জীবিত থাকবে, তারা অনেক মতবিরোধ দেখতে পাবে। সুতরাং তোমরা সে সময় আমার সুন্নাত এবং খুলাফায়ে রাশেদার সুন্নতকে আঁকড়ে ধরবে তোমরা দ্বীনের মাঝে নতুন বিষয় আবিষ্কার করা থেকে বিরত থাকবে, কেননা প্রত্যেক নতুন বিষয়ই বিদআত। আর প্রতিটি বিদআতের পরিণাম গোমরাহী বা ভ্রষ্টতা। (দেখুন: আবু দাউদ, অধ্যায়: কিতাবুস্‌ সুন্নাহ, তিরমিযী, অধ্যায়: কিতাবুল ইল্‌ম। ইমাম তিরমিযী বলেন: হাদীছটি হাসান সহীহ। মুসনাদে আহমাদ, (৪/১২৬), মাজমুওয়ায়ে ফাতাওয়া (১০/৩৫৪।)

কুরআনের উপরোক্ত আয়াত ও হাদীছের অনুরূপ অর্থে আরও অনেক আয়াত ও সহীহ হাদীছ রয়েছে, যার তাৎপর্য হচ্ছে মুসলমানদের উপর আবশ্যক হচ্ছে তারা ফরজ, সুন্নাত ও নফলসহ সকল প্রকার এবাদত আল্লাহ এবং তাঁর রাসূলের নির্দেশিত তরীকা অনুযায়ী সম্পাদন করবে এবং তাতে সকল প্রকার বিদআত থেকে বিরত থাকবে। রামাযান মাসে তারাবীর নামায একটি গুরুত্বপূর্ণ সুন্নাত এবাদত। তাই আমাদেরকে এক্ষেত্রেও সুন্নাতের অনুসরণ করতে হবে। বিশেষ করে তারাবীর নামাযের রাকআতের ক্ষেত্রে। আসুন আমরা সহীহ হাদীছের আলোকে তারাবীর নামাযের সঠিক রাকআত সংখ্যা জেনে নেই।

তারাবীর নামাযের রাকআত সংখ্যা:

রামাযান মাসে কিয়ামুল লাইল তথা তারাবীর নামাযের সঠিক রাকআত সংখ্যা হচ্ছে বিতরসহ ১১। রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম সর্বদা রাতের নামায বা তারাবীর নামায এগার রাকআতের বেশী পড়তেন না। উম্মুল মুমেনীন আয়েশা (রা:) থেকে ১১ রাকআত পড়ার কথাই বিশুদ্ধ সূত্রে প্রমাণিত হয়েছে। আর রাতের নামায যেহেতু রাসূল ঘরেই পড়তেন, তাই আয়েশা (রা:) এ ব্যাপারে সবচেয়ে বেশী জানতেন। তাঁকে রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামএর রাতের নামায সম্পর্কে জিজ্ঞেস করা হলে তিনি বললেন:

ما كان يزيد في رمضان ولا في غيره عن إحدى عشرة ركعة، يصلي أربعاً فلا تسأل عن حسنهن وطولهن، ثم يصلي أربعاً فلا تسأل عن حسنهن وطولهن، ثم يصلي ثلاثاً

রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম রামাযান কিংবা অন্য মাসে রাতের নামায এগার রাকআতের বেশী পড়তেন না। তিনি প্রথমে (দু রাকায়াত দু রাকায়াত করে) চার রাকআত পড়তেন। তুমি তার দীর্ঘ কিয়াম ও সৌন্দর্য সম্পর্কে জিজ্ঞেস করো না। তিনি পুনরায় চার রাকআত (দুই রাকআত দুই রাকআত করে) পড়তেন। তুমি তার দীর্ঘ কিয়াম ও সৌন্দর্য সম্পর্কে জিজ্ঞেস করো না। অতঃপর তিনি ৩ রাকআত বিতর পড়তেন। (বুখারী ও মুসলিম)

সায়েব বিন ইয়াজিদ (রা:) বলেন: উমার বিন খাত্তাব (রা:) উবাই বিন কা’ব এবং তামীম দারীকে এগার রাকআত তারাবীর নামায পড়ানোর নির্দেশ দিয়েছেন। (দেখুন: মুআত্তা ইমাম মালিক)

এটিই আয়েশা (রা:) থেকে বর্ণিত হাদীছের দাবী। এটিই ছিল অধিকাংশ সাহাবী,তাবেঈ এবং ইমামদের আমল। তারা এগার রাকআতের বেশী তারাবীর নামায পড়তেন না।

হাফেজ ইবনে হাজার আসকালানী (রহ:) তারাবীর নামাযের রাকআতের ব্যাপারে সকল মত এক স্থানে একত্রিত করেছেন।

১) তিন রাকতআত বিতরসহ ১১ রাকআত।

২) তিন রাকআত বিতরসহ ১৩ রাকআত

৩) তিন রাকআত বিতরসহ ২১ রাকআত

৪) তিন রাকআত বিতরসহ ২৩ রাকআত

৫) তিন রাকআত বিতরসহ ৩৯ রাকআত

৬) তিন রাকআত বিতরসহ ৪১ রাকআত

৭) তিন রাকআত বিতরসহ ৪৯ রাকআত

হাফেজ ইবনে হাজার আসকালানী উপরের সবগুলো মত উল্লেখ করার পর বলেন: তবে তারাবীর নামাযের রাকআতের ব্যাপারে আয়েশা (রা:)এর হাদীছ ব্যতীত অন্য কোন হাদীছ সহীহ সনদে প্রমাণিত হয় নি। আর তা হচ্ছে তাঁর কথা: রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম রামাযান কিংবা অন্য মাসে রাতের নামায এগার রাকআতের বেশী পড়তেন না।

বাকী মতগুলোর খণ্ডন:

ইবনে হাজার আসকালানী (রঃ) বলেন: আব্দুল্লাহ ইবনে আব্বাস (রা:) থেকে বর্ণিত রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামের ২০ রাকআত তারাবী পড়র হাদীছের সনদ দুর্বল এবং বুখারী ও মুসলিম শরীফে আয়েশা (রা:) থেকে বর্ণিত সহীহ হাদীছের রিরোধী। (দেখুন ফতহুল বারী ৬/২৯৫, হাদীছ নং- ১৮৭৪, মাকতাবা শামেলা)

আর বাকী বর্ণনাগুলো সাহাবী, তাবেয়ী এবং তাদের পরবর্তী যুগের আলেমগণ থেকে বর্ণিত হয়েছে। তারা যদি কেরাআত দীর্ঘ করতেন তাহলে রাকআত সংখ্যা কম করতেন। আর সংক্ষিপ্ত কেরাআত পাঠ করলে রাকআত সংখ্যা বাড়াতেন।

সার সংক্ষেপ:

 সবচেয়ে বিশুদ্ধ ও উত্তম হচ্ছে, কিরাআত দীর্ঘ করে বিতরসহ ১১ রাকআত তারাবীর নামায পড়া। তবে কতিপয় আলেম বলেছেনঃ তারাবীর নামায ১১ রাকআতের চেয়ে বেশী পড়তে চাইলে কোন অসুবিধা নেই।

শাইখ আব্দুল্লাহ আল কাফী এর সংযোজন:

মূলতঃ ১১ রাকাত বা ২০ রাকাত বলে কথা নয়। যে কোন সংখ্যায় মানুষ রাতের নফল নামায পড়তে পারে। যেটা রাসূল (সাঃ)এর কাওলী হাদীছ দ্বারা প্রমাণিত। কিন্তু যদি নির্ধারণ করা হয় যে ৮ রাকাত পড়া সুন্নাত। তাহলে দলীল দরকার। এক্ষেত্রে আমরা রাসূল (সাঃ)এর ফে’লী হাদীছ পাই, যাতে প্রমাণ হয় তিনি ৮ রাকাতই পড়েছেন। সুতরাং ৮ রাকাতই সুন্নাত। কিন্তু বেশী পড়তে চাইলে তার অনুমতি আছে। তাকে বাধা দেয়া যাবে না। এই কারণেই মক্কা-মদীনায় ২০ রাকাত পড়া হয় এবং শেষ দশকে ৩৩ রাকাত পড়া হয়।

 কিন্তু কথা হচ্ছে যদি বলা হয় ২০ রাকাতই সুন্নাত- ৮ রাকাত নয়, তাহলে ২০ রাকাত সুন্নাত বলার পক্ষে সহীহ্ দলীল দরকার। কিন্তু এক্ষেত্রে রাসূল (সাঃ) তো নয়ই, সাহাবায়ে কেরাম থেকেও কোন সহীহ বর্ণনা পাওয়া যায় না। ওমার (রাঃ)এর ব্যাপারে যে বর্ণনাগুলো উল্লেখ করা হয় তা যঈফ। দলীলের অনুপযুক্ত। বরং ওমার (রাঃ) থেকে মুআত্তা মালেকে ৮ রাকাতের পক্ষেই সহীহ্ বর্ণনা পাওয়া যায়।

 ওমার (রাঃ) থেকে তারাবীহর বিষয়ে ৩ রকমের বর্ণনা পাওয়া যায়,(১) ৩৬ রাকাত, কিন্তু বর্ণনাটি যঈফ। এটি রয়েছে কিয়ামুল্লায়ল মারওয়াযীতে। (৩) ২৩ রাকাত, এ বর্ণনাটিও যঈফ। এটি মুআত্তায় আছে। কারণ যার বরাতে বর্ণনাটি এসেছে তিনি ওমার (রাঃ)এর যুগে জন্ম গ্রহণই করেন নি। (৩) ১১ রাকাত,এটি মুআত্তা মালেকে বর্ণিত হয়েছে। এটি সহীহ বর্ণনা। যেমন আলবানী সাহেব তা সহীহ্ বলেছেন।

রাসূল (সাঃ) থেকে মারফূ সূত্রে ২০ রাকাতের পক্ষে যে হাদীছ উল্লেখ করা হয় তা খুবই দুর্বল বা জাল। বর্ণনাটি বাইহাকী,ত্বাবরানী ও ইবনে আবী শায়বায় উল্লেখ হয়েছে। সে সম্পর্কে বাইহাকী নিজেই বলেন উহা যঈফ।

তাছাড়া হানাফী মাযহাবের আলেমগণও হাদীছটি যঈফ হওয়ার ব্যাপারে মত দিয়েছেন। যেমন আল্লামা যাইলাঈ নসবুর রায়া গ্রন্থে,মোল্লা আলী কারী,বদরুদ্দীন আইনী,আনোয়ার শাহ কাশমীরী (রহঃ) প্রমূখগণ উল্লেখযোগ্য।

বদরুদ্দীন আইনী বলেন, ত্বাবারনী ও ইবনে আবী শায়বা বর্ণিত হাদীছটি যঈফ হওয়ার সাথে সাথে বুখারী ও মুসলিমের বর্ণিত আয়েশা (রাঃ)এর হাদীছের বিরোধী হওয়ার কারণে পরিত্যাজ্য। (দ্রঃ উমদাতুল কারী-বদরুদ্দীন আইনী, ৫/৩৫৯ মিশরী ছাপা( আল্লামা নাসেরুদ্দীণ আলবানী হাদীছটিকে জাল হিসেবে উল্লেখ করেছেন।

একটি সংশয় ও তার অবসান: তারাবী এবং তাহাজ্জুদের মধ্যে কোন পার্থক্য আছে কি?
প্রশ্ন: সৌদি আরবের সর্বোচ্চ উলামা কাউন্সিলের সাবেক প্রধান মুফতী সম্মানিত শাইখ আব্দুল আযীয বিন আব্দুল্লাহ বিন বায (র:)কে প্রশ্ন করা হয়েছিল, তারাবী, কিয়ামুল লাইল এবং তাহাজ্জুদের মধ্যে পার্থক্য কি?
উত্তর: সম্মানিত শাইখ আব্দুল আযীয বিন আব্দুল্লাহ বিন বায (র:) বলেন: রাতের নামাযকে তাহাজ্জুদ বলা হয়। একে কিয়ামও বলা হয়। যেমন আল্লাহ তাআলা বলেন:

وَمِنَ اللَّيْلِ فَتَهَجَّدْ بِهِ نَافِلَةً لَكَ

“আর রাতের কিছু অংশে তাহাজ্জুদ পড়, ওটা তোমার জন্য নফল।” (সূরা বানী ইসরাঈলঃ ৭৯) আল্লাহ তাআলা আরও বলেন:

يَا أَيُّهَا الْمُزَّمِّلُ قُمِ اللَّيْلَ إِلا قَلِيلًا

“ওহে চাদরে আবৃত (ব্যক্তি), রাতে সালাতে দাড়াও, রাতের কিছু অংশ বাদে।” (সূরা মুজাম্মেলঃ ১-২) আল্লাহ তাআলা আরও বলেন:

آخِذِينَ مَا آتَاهُمْ رَبُّهُمْ إِنَّهُمْ كَانُوا قَبْلَ ذَلِكَ مُحْسِنِينَ كَانُوا قَلِيلًا مِنَ اللَّيْلِ مَا يَهْجَعُونَ

“তাদের প্রতিপালক যা তাদেরকে দিবেন, তা তারা ভোগ করবে, কারণ তারা পূর্বে (দুনিয়ার জীবনে) ছিল সৎ কর্মশীল। তারা রাত্রিকালে খুব কমই শয়ন করত।” (সূরা আয-যারিয়াতঃ ১৬-১৭)

আর মানুষের উপর সহজ করে এবং বেশী দীর্ঘ না করে রামাযান মাসে রাতের প্রথম ভাগে কিয়ামুল লাইল করাকে আলেমদের পরিভাষায় তারাবী হিসেবে নাম করণ করা হয়। একে তাহাজ্জুদ এবং কিয়ামুল লাইল হিসেবে নাম করণ করাও জায়েজ আছে। এতে কোন অসুবিধা নেই। আল্লাহই তাওফিক দাতা
আব্দুল আযীয বিন আব্দুল্লাহ বিন বায
আরবীতে পারদর্শী ভাইদের জন্য ফতোয়ার লিংক দেয়া হল। অনুবাদে ভুল হয়ে থাকলে জানাবেন বলে আশা রাখি।
http://www.binbaz.org.sa/mat/1025

লেখক: আব্দুল্লাহ শাহেদ

সংযোজন: আব্দুল্লাহ আল কাফী

সম্পাদনায়: আব্দুল্লাহিল হাদী

 

Advertisements

আসুন শবে বরাত সম্পর্কে জানি

Posted on

মাহে শাবান ও শবে বরাতঃ করণীয় ও বর্জণীয়
হিজরী সনের ৮ম মাস হচ্ছে শাবান মাস। তার পরই আসে বছরের শ্রেষ্ঠ রামাযান মাস। সে হিসেবে মুসলিমের জীবনে এ মাসের যথেষ্ঠ গুরুত্ব রয়েছে। দীর্ঘ টানা একমাস তাকে সিয়াম সাধনা করতে করতে হবে। এর জন্য প্রয়োজন মানসিক, শারিরিক ও আর্থিক প্রস্তুতি। আমাদের প্রিয় নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম রামাযানে প্রস্তুতি স্বরূপ অন্য মাসের তুলনায় শাবান মাসে বেশী বেশী নফল রোযা রাখতেন। আয়েশা (রাঃ) বলেনঃ
فَمَا رَأَيْتُ رَسُولَ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم اسْتَكْمَلَ صِيَامَ شَهْرٍ إِلاَّ رَمَضَانَ ، وَمَا رَأَيْتُهُ أَكْثَرَ صِيَامًا مِنْهُ فِى شَعْبَانَ
Read the rest of this entry »

নবী (সাঃ)এর উপর দরুদ পাঠের ফজীলত

Posted on

আল্লাহ্ তাআলা পবিত্র কুরআনে বলেনঃ
إِنَّ اللَّهَ وَمَلَائِكَتَهُ يُصَلُّونَ عَلَى النَّبِيِّ يَا أَيُّهَا الَّذِينَ آمَنُوا صَلُّوا عَلَيْهِ وَسَلِّمُوا تَسْلِيماً
“আল্লাহ তাআলা ও তাঁর ফেরেশতাগণ নবীর প্রতি রহমত প্রেরণ করেন। হে মুমমিনগণ! তোমরা নবীর জন্য দুআ কর ও সালাম প্রেরণ কর। (সূরা আহজাবঃ ৫৬)

এই আয়াতে আল্লাহ তাআলা মুমিনদেরকে তাঁর নবীর প্রতি দরুদ ও সালাম পেশ করার আদেশ করেছেন। সুতরাং নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম-এর প্রতি দরুদ পেশ করা গুরুত্বপূর্ণ একটি এবাদত। নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম বলেনঃ যে ব্যক্তি আমার উপর একবার দরুদ পাঠ করবে আল্লাহ্ তার উপর দশটি রহমত নাযিল করবেন। তার দশটি গুনাহ ক্ষমা করবেন এবং তার দশটি মর্যাদা বৃদ্ধি করবেন। Read the rest of this entry »

সালাম-মুসাফাহা সংক্রান্ত প্রচলিত ভুল

Posted on

এটিহাদীসনয়

যে ব্যাক্তি আগে সালাম দিবে সে ৯০ সওয়াব পাবে, আর যে উত্তর দিবে সে ৩০ সওয়াব (অথবা ১০) পাবে।- উপরোক্ত কথাটি প্রসিদ্ধ হলেও হাদীসের কিতাবে তা খুঁজে পাওয়া যায়না। হাদীসে এব্যাপারে যা বর্ণিত আছে তার সারকথা হল, সালামের প্রতিটি বাক্যের বিনিময়ে দশটি করে সওয়াব পাওয়া যাবে। এ বিষয়ে একটি হাদীস নীম্নে দেওয়া হলঃ

“এক ব্যাক্তি রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এর নিকট এসে বলল, আসসালামু আলাইকুম। তিনি সালামের উত্তর দিলেন। তারপর লোকটি বসল। নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বললেন, ১০ সওয়াব । এরপর আরেক ব্যাক্তি আসল এবং বলল, আসসালামু আলাইকুম ওয়ারাহমাতুল্লাহ। নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম সালামের উত্তর দিলেন। তারপর লোকটি বসল। নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বললেন, ২০ সওয়াব । অর্থাৎ সে সালামের বিনিময়ে ২০টি সওয়াব পাবে। এরপর আরেক ব্যাক্তি আসল এবং বলল, আসসালামু আলাইকুম ওয়ারাহমাতুল্লাহ ওয়াবারাকাতুহ। নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম তার সালামের উত্তর দিলেন। তারপর লোকটি বসল। নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বললেন, ৩০ সওয়াব। অর্থাৎ সে সালামের বিনিময়ে ৩০টি সওয়াব পাবে.” সুনানে আবু দাউদ, হাদীস ৫১৯৫; জামে তিরমিযী, হাদীস ২৬৮৯।

এ বিষয়ের অন্যান্য হাদীস জানার জন্য দেখা যেতে পারে- আততারগীব ওয়া্ততারহীব, /৪২৮৪২৯; রিয়াদুস সালিহীন, /২৫২২৬৫। [মাসিক আল কাউসার, এপ্রিল-২০০৫, পৃষ্ঠা-২৫] এবং [মাসিক আল কাউসার, মে-২০০৮, পৃষ্ঠা-৩৫]  

 

একটিভুলআমাল

সালামের উত্তর প্রদানের ক্ষেত্রে “ওয়াবারাকাতুহু” এর পরে অনেকে “ওয়ামাগফিরাতুহু/ ওয়া জান্নাতু” বা এ জাতীয় অন্য বাক্য বৃদ্ধি করে থাকে। – এটি একটি ভুল আমাল। পূর্ণ সালাম হল আস্‌সালামু আলাইকুম ওয়া রহমাতুল্লাহি ওয়াবারাকাতুহু এবং পূর্ণ উত্তর হল ‘ওয়া আলাইকুমুস্‌সালাম ওয়া রহমাতুল্লাহি ওয়াবারাকাতুহু’। সালামের সাথে ‘ওয়াবারাকাতুহু’ এর পরে আরো অতিরিক্ত কিছু সংযোজন করতে হাদীসে নিষেধ করা হয়েছে। উল্লেখ্য, কোন কোন বর্ণনায় ‘ওয়াবারাকাতুহু’ এর পরে কিছু বাড়ানোর কথাও আছে। কিন্তু সেগুলো সনদের বর্ণনা সূত্রের নিরিখে সহীহ নয়। সুতরাং ‘ওয়াবারাকাতুহু’ এর পরে নিজ থেকে কিছু বাড়ানো ঠিক নয়। – সূরা হুদতাফসীরে কুরতুবী /৭১; তবারানী, আওসাত, হাদীস ৭৮৬; মাজমাউয যাওয়ায়েদ /৭০; মিরকাত শরহে মিশকাত /৫৫, আদ্দুরুল মুখতার /৪১৫; আমালুল ইয়াওমি ওয়াল্লাইলা ১১৭ [মাসিক আল কাউসার, আগস্ট -২০০৬, পৃষ্ঠা-৩০] এবং [মাসিক আল কাউসার, সেপ্টেম্বর -২০০৮, পৃষ্ঠা-৩৩]     

 

আমাদেরদেশেঅনেককেইদেখাযায়তারাবিদায়েরসময়বাচলেযাওয়ারসময়খোদাহাফেয (বাআল্লাহহাফেয)বলেথাকে।বিদায়েরসময়এটাবলাকিঠিক? বিদায়েরসময়েরসুন্নতআমালকী?

— সাক্ষাতের সময় যেমন সালাম দেয়া সুন্নত, তেমনি বিদায়ের সময়ও সালাম দিয়ে বিদায় নেওয়া সুন্নত। এসম্পর্কে একাধিক হাদীস আছে। যেমন হযরত আবু হুরাইরা (রাঃ) থেকে বর্নিত, রাসুলুল্লাহ (সাঃ) ইরশাদ করেন- “ যখন তোমাদের কেউ কোন মজলিসে পৌঁছবে তখন সালাম দিবে। যদি অনুমতি পাওয়া যায় তবে বসে পড়বে। এরপর যখন মজলিস ত্যাগ করবে তখনও সালাম দিবে। কারন প্রথম সালাম দ্বিতীয় সালাম অপেক্ষা অধিক গুরুত্বপুর্ন নয়। অর্থাৎ উভয়টির গুরুত্ব সমান.” – জামে তিরমিযী /১০০

সুতরাং বিদায়ের সময়ও ইসলামের আদর্শ এবং সুন্নত হল সালাম দেয়া। তাই সালামের স্থলে বা এর বিকল্প হিসেবে ‘খোদা হাফেয’ (বা আল্লাহ হাফেয) বা এ জাতীয় কোন কিছু বলা যাবেনা। অবশ্য সালামের আগে পৃথক ভাবে দুয়া হিসেবে  ‘খোদা হাফেয’ (বা আল্লাহ হাফেয) বলা দোষের কিছু নেই।

আরো দেখা যেতে পারে, শুআবুল ইমান /৪৪৮; সুনানে আবু দাউদ ১৩/৭০৭; মিন আদাবিল ইসলাম, শায়খ আব্দুল ফাত্তাহ আবু গুদ্দাহ রহঃ ১৩; ইমদাদুল ফাতাওয়া /৪৯১। [মাসিক আল কাউসার, মার্চ-২০০৫, পৃষ্ঠা-২৮]

 

সালামদেওয়ারএকটিভুলপদ্ধতি

বিভিন্ন সভা-সমাবেশে বক্তৃতা করার ক্ষেত্রে দেখা যায় বক্তাগণ মাইকের সামনে দাঁড়িয়ে সূদীর্ঘ বন্দনার অবতারনা করার পর সালাম দেন। এ রীতিটি ভুল। যেমন বলে থাকেন, “মঞ্চে উপবিষ্ট শ্রদ্ধেয় সভাপতি, মাননীয় পরিচালক, মান্যগণ্য অমুক অমুক সাহেব ও আমার শ্রোতাবন্ধুরা, আসসালামু আলাইকুম।“ নিয়ম হল শ্রোতাদের মুখোমুখি হওয়ার সাথে সাথে সালাম দেওয়া। সাক্ষাতের নিয়মাবলির ক্ষেত্রে সর্বপ্রথম সালামের কথাই বলা হয়েছে। [মাসিক আল কাউসার, মে-২০০৫, পৃষ্ঠা-৩৫]   

 

প্রশ্নঃ দুজন মহিলার পরস্পর সাক্ষাতে সালাম ও মুসাফাহা করার বিধান আছে কি?

সালাম মুসাফাহার বিধান শুধু পুরুষের জন্য নয়। এগুলো যেমন দুজন পুরুষের পরস্পর সাক্ষাতের সময় সুন্নত তেমনি দুজন মহিলার বেলায়ও সুন্নত। সহীহ বুখারী /৯১৯, /৯২৬, ফাতহুল বারী ১১/৫৭; আদ্দুরুল মুখতার /৩৬৮। [মাসিক আল কাউসার, ফেব্রুয়ারি-২০০৬, পৃষ্ঠা-২৭]

 

একটিভুলরীতি

কোন কোন মানুষকে সালাম বা মুসাফাহার পর নিজ বুকে হাত রাখতে দেখা যায়। এটি একটি ভুল রীতি। একাজটিকে যদি সালাম-মুসাফাহার সুন্নত নিয়মের অংশ মনে করা হয় তাহলে এটি বিদআত; আর এমনি করা হলে এটা একটা অনর্থক কাজ। মহব্বতের প্রকাশ তো সালাম-মুসাফাহার মাধ্যমেই হয়ে গেল। বাড়তি কিছুর তো প্রয়োজন নেই। মোটকথা এটি সংশোধন যোগ্য। [মাসিক আল কাউসার, এপ্রিল -২০০৬, পৃষ্ঠা-৩৭]

কুরআন শিক্ষা: বিধান, পদ্ধতি ও ফযীলত

Posted on

শিরোনাম: কুরআন শিক্ষা: বিধান, পদ্ধতি ও ফযীলত

ভাষা: বাংলা

সম্পাদক : আবু বকর মুহাম্মাদ যাকারিয়া

প্রকাশনায় : ইসলাম প্রচার ব্যুরো, রাবওয়াহ, রিয়াদ

সংক্ষিপ্ত বর্ণনা: প্রবন্ধকার এখানে কুরআন শিক্ষার বিধান, পদ্ধতি ও ফযিলত সম্পর্কে আলোকপাত করেছেন, সাথে সাথে কুরআন না শিক্ষা করার পরিণতিও তুলে ধরেছেন।

ডাউনলোড করতে এখানে ক্লিক করুন

যে চৌদ্দটি আমলে রিজিক বাড়ে

Posted on

শিরোনাম: যে চৌদ্দটি আমলে রিজিক বাড়ে

ভাষা: বাংলা

সংকলন : আলী হাসান তৈয়ব

সম্পাদক : আবু বকর মুহাম্মাদ যাকারিয়া

প্রকাশনায় : ইসলাম প্রচার ব্যুরো, রাবওয়াহ, রিয়াদ (islam house. com)

সংক্ষিপ্ত বর্ণনা: এ নিবন্ধে পবিত্র কুরআন ও সুন্নাহে নববীর আলোকে রিজিক বৃদ্ধির ১৪টি আমলের কথা তুলে ধরা হয়েছে।

বইটি ডাউনলোড করতে এখানে ক্লিক করুন

Download from here

ইখলাস কি? যে কারনে অনেক শহীদ/আলেম/দানশীল ব্যাক্তি ও জাহান্নামে যাবে!

Posted on

ইখলাস হল আল্লাহর নৈকট্য অর্জনের চাবিকাঠি।

আবু হুরায়রা (রাঃ) বর্ণনা করেন তিনি রাসুল (সাঃ) কে বলতে শুনেছেন-

কিয়ামতের দিন সর্বপ্রথম এমন এক ব্যক্তির ব্যপারে ফয়সালা হবে যে শহীদ হয়েছিল। তাকে আনা হবে এবং তাকে যেসব সুযোগ সুবিধা দেওয়া হয়েছিল তা পেশ করা হবে। সে তা চিনতে পারবে। আল্লাহ তা’য়ালা তাকে জিজ্ঞেস করবেন, ‘আমি যে সমস্ত নিয়ামত তোমাকে দিয়েছিলাম, তার বিনিময়ে তুমি কি কাজ করেছ?’ সে বলবে, আমি আপনার পথে লড়াই করে শহীদ হয়েছি। তিনি বলবেনঃ তুমি মিথ্যা বলছ। বরং তুমি এজন্য লড়াই করেছ যে, লোকেরা তোমাকে বীর বাহাদুর বলবে! আর তা বলাও হয়েছে। অতঃপর তার সম্বন্ধে নির্দেশ দেওয়া হবে এবং তাকে উপুড় করে টেনে নিয়ে জাহান্নামে নিক্ষেপ করা হবে। Read the rest of this entry »